বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০১৫

পাখি তুই ফিরে আয়



বাতাসে চামর দোলে
ফুলে দোলে মউ
শীত গেল গ্রীষ্ম গেল
আসে নাতো বউ
দূর দেশে মেঘ ভাসে
নদীত ভাসে নাও
আমারে ভাসাইলা কোন
দক্ষিণা বাও
নীড় কাঁদে হু হু হু
ডাহুক কাইন্দা যায়
আর কত পোড়াবি তুই
পাখি ফিরে আয়........

বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৩

একটি মৃত্যু একটি ইতিহাস




এক.
সদর রাস্তা দিয়ে গাড়ী যেন উড়ে চলছে। জানালা দিয়ে ধান খেতের বিস্তৃত সীমা ছাড়িয়ে দূরের সবুজাভ বৃক্ষমোড়ানো গ্রামের দিকে চেয়ে আছি। কিন্তু চোখ কিছুই দেখছে না। মনের পর্দায় তখন বাশবাড়ি গাও।

বড় চাচা আর নেই। একথাটা ভাবতে মন মানে না। ভিলেজ পলিটিক্স উপেক্ষা করে জাতপাত ভুলে চাড়াল-নমশুদ্র আপন করে নিয়েছিলেন এই শেখের বেটা আজিজুল হক পান্না মিয়া। তিনি কোনদিন বীর মুক্তিযোদ্ধা খেতাবও লাগাননি এবং কেউ তাকে মুক্তিযোদ্ধার সুবিধাও নিতে দেখেনি। অস্ত্র জমা দিয়ে চাষবাসে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি।

দুই.
জানাজায় গ্রাম ভেঙ্গে পড়েছে। গ্রামের অধিকাংশ হিন্দু মহিলা-পুরুষ এসেছে শেষ দেখা দেখতে। অন্দরে হিন্দু মহিলাদের অনেকেই বিলাপ করে কাদছেন। তাদের সব মুসকিলের আসান পান্না দাদা অকুল পাথারে ভাসিয়ে চলে গেল!

জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে দাফন হল। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি ভর্তি মানুষ আসছে আর যাচ্ছে। মধুমতির পাড়ে বসে অন্ধকারের দিকে চেয়ে আছি। কখন যে পুথি প্রেমিক আওয়াল কাকা এসে পাশে বসেছেন জানিনা।

তিন.
আওয়াল কাকা টিএনটিতে ছোট পদে চাকুরি করতেন। শেষ বয়সে এখন আর চোখে তেমন দেখতে পান না। সুতরাং পুথি পাঠ তার শিকেয় উঠেছে বহু আগেই। অনেক সাধনা আর শ্রম দিয়ে বিশখানার মত পুথি জোগাড় করেছিলেন। ছোট বেলায় সন্ধ্যার পর কুপির আলোতে কত যে পুথিপাঠ শুনেছি তার মুখে। তিনি পুথিগুলোকে আমায় দিতে চাইলেন। সারা ঘর খুজে পাওয়া গেল মাত্র তিনখানা। বাকিগুলো বেহাত হওয়ার খবরও তিনি জানেন না।


চার.
তিনটি পুথি হচ্ছে-১. আদি ও আসল খয়বরের জঙ্গনামা। লেখক দোস্ত মোহাম্মদ। রচনাকাল- ১২৮৪ সাল(১৮৭৭ খ্রী.)। ২. আদি ও আসল খায়রল হাশর। লেখক সেখ কমরুদ্দীন। রচনাকাল-অজ্ঞাত, কারন প্রথম ও শেষ দিকের অনেকগুলো পাতা হারিয়ে গেছে। এবং ৩.আদি ও আসল ছহি বড় জৈগুণের পুথি, হানিফার লড়াই। লেখক সৈয়দ হামজা। এটি তিনি রচনা করেছেন ২৩ শে আশ্বিন ১২০৪ সাল (১৭৯৭ খ্রী.)। লেখা শেষ হয়েছে জুমার নামাজের কালে। মুদ্রাকর-মোহাম্মদ মুসা। মোহাম্মদী প্রিন্টিং প্রেস, ৪৯নং হরনাথ ঘোষ রোড, ঢাকা-১।

এই পুথিগুলো নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে আছে।

--------------------------------------------------------------
ছবি- শেখের পো'র আর্কাইভ থেকে।

মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

হে বঙাল তব ইজ্জতে মুই পরান সপি....পর্ব তিন





এক.
প্রথমবার যখন সেন্ট মার্টিন দেখতে যাই, একটা ঘোরের মত লেগেছিল। ছোটবেলায় ঘোলা পানির নদীতে সাতরে ঘন্টার পর ঘন্টা পার হয়ে যেত। আর এখানে অসম্ভব সবুজ পানি, সফেদ ফেনা দেখতে দেখতে দ্বীপে গিয়ে উঠলাম। চারদিকে নারকেলের বাগান। মনে হল গ্রামের বাড়িতে এসেছি। আমাদের বিরাট নারকেল বাগানের মত মফস্বল শহরটাও যেন একটা বড় নারকেল বাগান। শহরের উচু একটা ইমারতের ছাদে উঠে আমাদের শহরটা তেমনই লেগেছিল।

সেন্ট মার্টিনে পা দিয়ে তাই প্রথম তৃষ্ণা মেটাই ডাবের পানি দিয়ে। স্থানীয়দের কথা কিছুই বুঝি না। তবে এটুকু প্রথম বুঝলাম জাজিরার ডাবে চিনির শরবত পোরা। জাজিরা শব্দটাও সেখানে প্রথম শুনি। পরে একে নারকেল জিঞ্জিরা বা জাজিরা নামে জানতে পারি। বৃটিশরা এসে এ দ্বীপের নাম দেয় সেন্ট মার্টিন।

তারপর সুযোগ পেলেই নারকেল জিঞ্জারা গিয়েছি বারবার।

বহুদিন পর জাজিরাতুল আরব নিয়ে যখন একটা লেখা পড়ি। সাথে সাথে নারকেল জাজিরার ছবি ভেসে ওঠে পরাণ পটে।

আরবিতে জাজিরা جزيرة অর্থ- দ্বীপ। আর সেন্ট মার্টিনকে আরবিতে বলে নারকেল জাজিরা نارجيل جزيرة ।

বাংলাদেশে এমন আরো জাজিরা আছে। বুড়িগঙ্গার ওপার জিঞ্জিরা আসলে জাজিরা শব্দ থেকে হয়েছে।



শরিয়তপুরে আছে আরেক জাজিরা। পদ্মার পাড়ে এ জাজিরা উপজেলা এখন ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।


দুই.
বৃহত্তর নোয়াখালীতে আছে অনেক চর। উড়ির চর, চর ফ্যাশন, চর মতলব। বরিশালে আছে কাউয়ার চর। খুলনার সুন্দরবনে দুবলার চর। এসব চরের প্রথম আগুন্তক হচ্ছে পাখি।



চর এলাকায় মনুষ্য বসতি গাড়ার পর ক্রমে তা মূল ভূখন্ডের সাথে একিভূত হয়। কিন্তু পেশিশক্তির প্রদর্শন চরেই বেশি দেখা যায়।

অভিধানে চর শব্দের দুটো অর্থ আছে।
এক. (বিশেষ্য) গুপ্তচর, গোয়েন্দা। রাজা বা রাজপুরুষ কর্তৃক প্রেরিত গোপনে সংবাদ সংগ্রহকারী ব্যক্তি। {সংস্কৃত ধাতু- চর+অ}
দুই.(বিশেষ্য) চড়া, নদীতে পলি জমে গঠিত ভূভাগ।
"চরে এসে বসলাম রে ভাই ভাসালে সে চর।-নজরুল ইসলাম" {তুলনা হিন্দী চর}

আরবিতে একটা শব্দ আছে জর جر । এর একটা অর্থ- অংশ, জেগে ওঠা মাটি। নদীর স্রোত ক্ষীণ হয়ে যে মাটি জেগে ওঠে।

চলবে-

ছবি- নেট থেকে।

আগের পর্ব- এক . দুই .
------------------------------------------------------------------

গাঁ, গাও, গেরাম(কথ্য), গ্রাম(সংস্কৃত) এ শব্দগুলোর একটাই অর্থ পল্লি জনপদ। প্রাচীন আরবিতে غاون গাওন শব্দের অর্থও জনপদ।
ساتغاون Satgaon وهو قسم من ساحل نهر هوغلي (6)Hooghly في البنغال
সাতগাও নামে বাঙলার হুগলী নদীর তীরবর্তী জনপদ।

গাওন থেকে গাও।

হে বঙাল তব ইজ্জতে মুই পরান সপি....পর্ব দুই



এক.
ছোট বইন জামাইয়ের অদ্ভুত এক শখ নারকেলের পুর দেয়া পুলি পিঠা পেট পুরে খাওয়া। কিন্তু বেচারা পিঠা খেয়ে সহ্য করতে পারে না। ঘন্টা পার হওয়ার আগেই লোটা নিয়া লৌড়া-লৌড়ি শুরু হয়ে যায়। তবু তার পিঠা খাওয়া চাই।

সুলতানপুর থেকে নারকেলপুর যেতে নদীপথ সবচেয়ে ভাল। যেতে যেতে নদীপাড়ে নারকেলবাগান দেখে পরান ভরে যায়।

বাংলাদেশে জেলা থেকে শুরু করে অনেক জায়গার নামে পুর শব্দটি আছে। এশব্দটি ভারতেও বেশ দেখা মেলে। ওড়িষার বিখ্যাত বন্দরনগরী হচ্ছে পুরী।


বাংলা ভাষায় পুর বা পুরী শব্দের আভিধানিক অর্থ বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধানের (২০১১) পৃ. ৭৬০ দেখা যায়-

১. পুর= (বিশেষ্য) আলয়, ভবন, গৃহ, নিকেতন(তোরা যাবি রাজার পুরে। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।) নগর, গ্রাম, শহর ইত্যাদি(হস্তিনাপুর)। {সংস্কৃত ধাতু-পু+ক্বিপ}

আসমানিদের দেখতে যদি তোমরা সবে চাও
রহিমুদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
-পল্লীকবি জসীম উদ্দীন

২. (বিশেষ্য) পিঠা ইত্যাদির ভিতরে পোরা হয় এমন বস্তু।(নারকেলের পুর) {সংস্কৃত-পুট}

বাংলাদেশের পুর সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো প্রাচীন জনপদ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নদী তীরবর্তী বন্দর।


দুই.
ফেসবুকে আমার এক বন্ধুর নাম ইব্রাহীম বুরসাইদি। ইব্রাহীম তো বুঝলাম, কিন্তু বুরসাইদি আবার কি জিনিস? তিনি জানালেন, বুরসাইদে তার জন্ম।


অর্থাত পোর্ট সাইদের পাবলিক তিনি।

আরবি ভাষায় বুর بور শব্দের অর্থ- বন্দর। সেদিক দিয়ে ওড়িষার ঐ বন্দরনগরীর নাম বুরি।



আরবি ভাষার বাংলাদেশের ম্যাপ ঘাটলে দেখা যাবে সব পুরকে বুর লেখা হয়েছে।

চলবে-

ছবি- ইন্টারনেট
------------------------------------------------
আরবিতে জালবোত جالبوت নামে একটা শব্দ আছে। এর খাসা বাংলা হচ্ছে- মাছ ধরা নৌকা।

শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৩

হে বঙাল তব ইজ্জতে মুই পরান সপি....পর্ব এক




দিবাচা
ব্লগার আবদুল হালিমপাভেল চৌধুরী বাংলা-বাঙালী বিষয়ে ভাবনা জাগানিয়া পোস্ট দিয়েছেন।

আমার শৈশবের বঙাল স্মৃতি এসব লেখায় দেখতে পাই। বড়চাচা কলকাতা যেতেন ফুটবল খেলতে। তাকে বঙাল বলে বরাবর সেখানে ডাকা হত। হীন অর্থ তাতে বলার ভঙ্গিতে থাকলেও, আমার চাচা বঙাল পরিচয়ে গর্ববোধ করতেন। আমরা বঙাল থেকে কখন বাঙালি হইছি তা তিনি গল্পচ্ছলে বলতেন। তার সেই গল্প এখন বই-কেতাব ঘেটে বাস্তব নজির হিসেবে বেশ পাওয়া যাচ্ছে।

'ক'অক্ষর গোমাংস কিম্বা মামদো ভুত বিষয় নিয়ে শেকড় খুঁজতে শুরু করার পর নিজকে বঙাল হিসেবে সৌভাগ্যবান মনে করি।

ভাষার মাস শুরু হচ্ছে। বঙাল, বাঙ্গালা, বাংলা শব্দের ব্যবহার কখন, কোথায় এর শুরু তা খুজে দেখার একটা তাগিদ দিলের ভেতর হু হু করে ওঠে।

আবদুল হাকিম বলেছিলেন-
যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

আমাদের শেকড় এতকাল খুজেছি অপাত্রে-অজায়গায় খাতকাটা লেখায়। পুথি-কেতাবের যে অমূল্য ধন-ভান্ডার হেলায় সরিয়ে রেখেছি তা এখন ধুলো ঝেড়ে ঘেটে দেখা দরকার।

উৎকল-সিতারা(উড়িষ্যার নক্ষত্র) উপাধি প্রাপ্ত আঠার শতকের কবি হাজী আবদুল মজীদ বলেন-
এক.
তার দেশ বাঙ্গালাতে মোর ঘর উড়িষ্যাতে
বালেশ্বর কটক জেলায়।
বস্তা থানার পাশ কদিমি মোকাম বাস
গড় পদ্দা পরগণা বলায়।

দুই.
কেন কি দেহাতি আমি নিরেট গাঙার।
তাহাতে আমার পয়দা দেশ উড়িষ্যার।।
বাঙ্গালায় এসে আমি ইছলামী জবান।
পড়েশুনে লিখিলাম ওহে মেহেরবান।।

মুছলিম কর্তৃত্বের আগে পূর্ব ভারতে গৌড়-বঙ্গ বঙ্গাল নামে আলাদা আলাদা ভূখন্ড সেন, বর্মন বৌদ্ধ রাজগণ শাসন করেছেন। এসব অঞ্চল প্রথম একত্রে ১৩৫২ সালে বাঙ্গালাহ বা বাঙ্গালা নামে একদেশ হয়। এর আগে দেশনাম বাঙ্গালা ছিল না।

গৌড়-বঙ্গ আজ পশ্চিম বঙ্গ আর বঙাল হচ্ছে আজকের বাংলাদেশ। বাংলাদেশ নামটি প্রথম প্রকাশিত ডাকটিকেটে "বাংলা দেশ" লেখা হয়েছে।

হিন্দু-বৌদ্ধ আমলে পঞ্চ গৌড় নামে পরিচিত অঞ্চলগুলো শশাংক ও তারও আগে এটা দু'টো প্রধান ভাগে বিভক্ত ছিল। এক. বঙ্গ, দুই. বঙ্গাল। প্রাচীন শিলালিপি বা প্রত্ন ইতিহাসে এর আরো কিছু নাম ও অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। এধরণের নজির 'আরণ্যক' গ্রন্থাদি থেকে পাওয়া যায়।

১২০০ ইসাদিতে এ অঞ্চলে মুছলিম শাসন কায়েম হবার পর 'দিয়ারে লখনৌতি', 'দিয়ারে সাত গাঁও', ও 'দিয়ারে সোনার গাঁও' নামে রাজনৈতিকভাবে তিনটি মুছলিম অঞ্চল গঠিত হয়। ১৩৫২ ইসাদিতে ছোলতান হাজী শামছুদ্দিন ইলিয়াছ শাহ্ এই অঞ্চল তিনটিকে ঐক্যবদ্ধ করে "বাঙ্গালাহ" নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেন।

তারও পরে সম্রাট আকবরের আমলে এর নাম হয় "সুবা বাঙ্গালাহ"।

চলবে-

ছবি- শেখের পো'র আর্কাইভ থেকে।
-------------------------------------------------------
দিবাচা অর্থ-উপক্রমণিকা, ভূমিকা, মূখবন্ধ ইত্যাদি।

দিয়ার শব্দটি আরবি দার এর বহুবচন। অর্থ- অঞ্চল, আবাসস্থল।

সাত গাঁও শব্দটির সাত আরবি সাথিউন থেকে এসেছে। অর্থ- উপকূলীয় অঞ্চল। গাঁও শব্দটি ফারসি/আরবি, অর্থ-জনপদ।

'ক' অক্ষর গোমাংস। বঙাল এবং বাঙালা লিপির প্রতি বিদ্বেষ ও হীন অর্থে এটা চালু করা হয়। ক অক্ষরটি বাঙলা লিপির, তাই এটা গোমাংসের তূল্য, অচ্ছূৎ। এলিপি শেখা হীন কাজ। সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখায় এর মর্মোদ্ধার আছে। যদিও এখন একে বলা হয়- অজ্ঞ, মূর্খ, জ্ঞানহীন। অর্থাৎ বঙালরা অজ্ঞ, মূর্খ, জ্ঞানহীন!!!!!

মামদো ভূত- বিশেষ্য/বিশেষণ, বাংলাদেশের লোকবিশ্বাস অনুযায়ী প্রেতযোনিপ্রাপ্ত মুসলমান, ইসলাম ধর্মাবলম্বী ভূত (মামদো ভূত)। আরবি মহম্মদ+ঈয়। দেখুন-বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান জানুয়ারি ২০১১ পৃ-৯৭৮

বঙাল অঞ্চলে যারা হিন্দু থেকে মুসলমান হত তাদেরকে গৌড়-বঙ্গের পন্ডিতরা বলত-ওর ঘাড়ে মামদো ভূত চেপেছে বলে কটুক্তি করত।

সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২

অচেনা আকাশ...!!!




এই ছিল তোর মনে!
কতটা বিকেল কেটে গেছে
সুখাগ্ন আলাপে

বিষন্ন দুপুর ছিলনা কখনও
আমাদের আকাশে

দিন শেষে সন্ধ্যার তারারা
সলজ্জ্ব হত আমাদের
খুনসুটি দেখে

কি আবেশ ছিল
পরতে পরতে
হৃদয়ের ভাজ খোলা খামে

আজ একি হলো তোর
কলুষিত বিশ্বাসের ভোর
বিক্রি হয়ে গেলি রংচটা দামে


ছবি-নেট থেকে মারিং

সোমবার, ২৭ আগস্ট, ২০১২

প্রাচীন কুফি লিপি নিয়ে কথা...




লৌহজং এলাকায় এক মসজিদে স্থানীয় মাদ্রাসার বড় হুজুর এসেছেন। তিনি মেহরাবের উপরের লেখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। ইমাম সাহেব বললেন, কুফি লিপিতে কালিমা তৈয়্যবা।

হুজুর বিস্মিত হয়ে বললেন, এটা আবার কি জিনিস, এরকম লিপি ত কোন দিন দেখিনি। এটা ত পড়া যায় না, এমন জিনিস এখানে না দিয়ে বর্তমানের আরবি হরফে দিলে ঠিক হত।

ইমাম সাহেব আমাকে দেখিয়ে দিয়ে বললেন, এ বিষয়ে ইনি ভাল বলতে পারবেন।

হুজুর আমাকে দেখে আরো বিস্মিত। অবশেষে বলেই ফেললেন, এই প্যান্ট-সার্ট পরা ভদ্রলোক এসবের কি জানবে!

আমি বললাম, আসলে বিষয়টা আমারও এক সময় জানা ছিল না। ইসলামের প্রথমদিকে প্রায় সাড়ে তিনশত বছর কুরআন এই কুফি লিপিতে লেখা হত, সেটাও আমাদের অনেকের অজানা।

হুজুর এবার সন্দেহের চোখে তাকালেন, কিন্তু মুখে বললেন, আপনার কাছে কি দলীল আছে এ বিষয়ে।

আমার ব্যাগে মুসেআহ আল খত আল আরাবি(আরবি ক্যালিগ্রাফির বিশ্বকোষ) বইয়ের কুফি লিপির একটা কপি ছিল। সেটা তার হাতে দিলাম।



উনি বইটি উল্টে পাল্টে দেখলেন। ভেতরের এক জায়গায় আমাকে পড়তে বললেন। পড়ে শোনানোর পর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং আবেগের সাথে বললেন, দীর্ঘ তিন যুগ আমি বুখারির দরস দেই এবং আমার ধারণা ছিল, ইসলাম ও তারিখ(ইসলামের ইতিহাস) সম্পর্কে আমি ভালই জানি। এখন মনে হচ্ছে, আসলে আমি কিছুই জানি না।

নেট ঘেটে কুফি লিপি নিয়ে অনেক কিছুই পাওয়া যায়।



৭ম শতকের কুফি লিপিতে লেখা কুরআনের একটি পাতা।

প্রতি দুবছর পরপর ইস্তাম্বুলে ওআইসির কালচারাল বিভাগ আইআরসিআইসিএ আন্তর্জাতিক ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। বাংলাদেশ থেকেও এ প্রতিযোগিতায় অনেকে অংশ গ্রহণ করেন। এ প্রতিযোগিতায় কুফি লিপি এবং মুসহাফ কুফি(কুরআনের কুফি) নামে বিভাগ আছে।



কুফি লিপি আরবি লিপির সবচেয়ে প্রাচীনতম লিপির অন্যতম। সুতরাং এর উন্নয়ন এবং বিচিত্র শাখার উদ্ভব বেশি হয়েছে। এখন এটা ইমারত বা স্থাপত্য লিপি হিসেবে বেশি ব্যবহার হয়।





মধ্যএশিয়ায় স্থাপত্যে বলা যায় মনোপলি ব্যবহার হয়েছে এলিপির।



কুফি লিপিতে কালিমা



কুফি লিপিতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম




১৪ শতকে ইলখানিদ শাসনামলে রুপার মুদ্রায় কুফি লিপিতে কালিমা।


আমাদের দেশেও বিশেষ করে মসজিদে এলিপির ব্যবহার বেড়েছে।



ঢাকার উত্তরার একটি মসজিদের মেহরাবের উপরে কুফি লিপিতে লেখা কালিমা।



কুফিলিপির হাতে-কলমে বইয়ের একটি পাতা। এখানে জিম হরফের নানান বিষয় দেখানো হয়েছে।



কুফি লিপির আরেকটি প্রাকটিক্যাল বইয়ের পাতা। এখানে ক্যালিগ্রাফি ও ইন্ডিভিজ্যুয়াল হরফ দেখা যাচ্ছে।

ছবি-নেট থেকে

শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১২

মধুমতি, তোর টানে...


সরষের তেলে চিংড়ি বড়ার স্বাদ
কখনো বাতাসে ভাসে পাটের সোঁদা গন্ধ
মধুমতি, তোর টানে এসেছিরে ফিরে
দুহাত ভরা দেখ, কত আনন্দ

দূরে হাওয়ায় কাঁপে ঘুঘু ক্রন্দন
সাথী আয় ফিরে আয়
আমি যাই, উড়ে যায়
মন যায় তারও আগে
পরি যে আমার ভরা নিশি জাগে

বেলা পার হয় ছায়াবিথিতে ধীরে
অলস সন্ধ্যা নামে
আমায় দেখে সে হঠাৎ দরোজায়
দুচোখে বর্ষা নামে

শুক্রবার, ২৪ আগস্ট, ২০১২

চিকু আলির বাগানবিলাস..




তাকে আমরা কখনও ডাকি ফারমার, আবার কখনও ডাকি টাকাটাকি ইঞ্জিমেকার নামে। তার বন্ধুরা তাকে চিকু আলি ওরফে মিচকা হাসি নামে ডাকতে পছন্দ করে। আর সে নিজকে পরিচয় দেয় শেখ চিকন আলি শেখু। শেখু তার দাদার দেয়া উপাধী।

সারাদিন নানান রকম গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজকে ব্যস্ত রাখে চিকু শেখ। স্কুলের পড়ার বাইরে মাছ-মুরগি চাষ, বাগান করা,
'এসো নিজে করি' নামের ছোটদের বিজ্ঞান সিরিজের বইগুলোর প্রতি তার আগ্রহ বেশি। গ্রাম থেকে দাদা-নানা আসলে চাষবাস নিয়ে রীতিমত পেশাদারি আলাপ চালায় সে। আমরা তাতে বেশ মজা পাই।

বাসায় কোন খেলনা আস্ত নেই। সব তার মহান গবেষণায় প্রাণ বিসর্জন দিছে। এমনকি পুরান মোবাইল, টুইনওয়ানও তার সার্জারির হাত থেকে রেহাই পায় নাই। তবে কম্পু-লেপটপের ওপর উল্টাপাল্টা হাত বুলানোর জন্য হালকা পিঠপালিশও তার ভাগ্যে জুটেছে।



আমার পড়ার ঘরে স্টিলের আলমিরার ওপর সে গবেষণাগার বানাইছে। বারান্দায় বসে ঠুকঠাক করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে। ওটা হল তার ফিল্ডওয়ার্কের জায়গা। নিজের বানানো ফ্লাশ লাইটের আলো বাড়ানো-কমানো, ব্যাটারি চালিত হাতপাখা, পোকা-মাকড় বড় করে দেখার জন্য বাল্বের ভেতর পানি ভরে তা দিয়ে অনুবিক্ষণ যন্ত্র বানানোসহ হরেক পদের গবেষণা করে সে।

একবার সে স্কুল থেকে ফেরার পথে ইমারত তৈরির মসল্লা মিকচার যন্ত্র দেখে এসে খাতায় সেটা নিজের মত করে আঁকলো। এরপর ছবিতে বিভিন্ন অংশের বর্ণনাও লিখে দিল। মিকচারটা ছয়তলার ছাদে কিভাবে যাবে সেটার একটা ডায়াগ্রাম একে ফেলল। পরে এ মহান গবেষণাকর্ম তার মা পুরোন কাগজপত্রের সাথে ফেরিওয়ালাকে দিয়ে দেয়ায় প্রতিবাদ স্বরূপ এক সপ্তাহ ডাল খাওয়া বন্ধ রাখে সে। কারণ ডাল হচ্ছে তার প্রিয় মেনুর একটা। এবং সেটা অবশ্যই পাতলা হতে হবে। আমাদের খাবার টেবিলে ডাল-স্যুপ-পায়েশ কম্পোলচারি আইটেম।

চিকু শেখের আরেকটা বাতিক হলো প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর ছবি আঁকা। সেটা সে নিজস্ব স্টাইলে করে থাকে। গরু-বাঘ-মুরগী লাখ বছর আগে কেমন ছিল সেটা আঁকা আর কি। তার মা এসব জন্তুর ছবি আঁকার ঘোর বিরোধী, তাই লুকিয়ে এগুলো সে মাঝে মধ্যে আঁকে এবং আমাকে দেখায়। আমি সমালোচনা করে যখন বলি বাঘের চাইতে দাঁতটা বেশি বড় হইছে। তখন বিজ্ঞের মত করে বলে, এই জন্য ত বর্তমানের বাঘের দাঁত এত ছোট হইছে।

ছোটবেলায় একবার নানাবাড়ীর গরু তাকে গুতা দিয়েছিল। বেদ্দপ গরুরে শিক্ষা দেয়ায় জন্য সে একটা প্রতিবাদি কার্টুন গরু আঁকল। সে ছবিতে গরুর শিং অনেক বড় আর মোটা আঁকলো। এতবড় শিং নিয়ে গরুর দাড়িয়ে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে বুঝানোর জন্য চোখ দিয়ে পানি পড়া দেখাল। তবে সব চেয়ে ইন্টারেস্টিং ছিল, গরু যাতে পেশাব করতে না পারে সেজন্য পেশাব দড়ি দিয়ে বেধে দেয়া আঁকল।



এখন এতসব কাজের ভেতর বাগান করা এবং তা নিয়ে নানান রকমের বই পড়া, নেট ঘেটে তথ্য দেখা আর তা কাজে লাগানোর ব্যাপার দেখা যাচ্ছে।

জানালার এ জায়গাটুকুতে সে বাগান করেছে। নিম, লিচু, কচু, নয়নতারা, পিয়াজ, মরিচ এবং কয়েক রকমের ঘাস আছে এখানে। গাছের একটা তালিকা করেছিল সে। সকাল-সন্ধ্যা পানি দেয়। কখনও টবে চা-পাতা দেয়।



বাগান করাটা এখন তার অন্যতম প্রধান কাজে পরিণত হয়েছে। আমরা তার এসব কাজে বাধা দেই না।

চিকু শেখ ভবিষ্যতে কি হতে চায়, তা জানার জন্য হয়ত আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১২

টুংগীপাড়ার পথে......





সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।

এবার হঠাৎ বর্ষণমুখর দিনে জন্মভূমির উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লাম। যাত্রাবাড়ীর যানজট ছাড়া এবারের ভ্রমণটা ছিল এককথায় মন জুড়ানো। পুরো রাস্তা মখমলের মত মসৃণ আর আরামদায়ক। সাথে ক্যামেরা ছিল, কিন্তু তাড়াহুড়োয় পর্যাপ্ত ব্যাটারি না থাকায় অনেক ছবি তোলা যায় নাই।



মাওয়া লঞ্চঘাট থেকে পদ্মায় ভেসেছি আমরা।



ঘাটের পাশেই ইটের ভাটা। নদীতে গরুর গা ধুইয়ে দেয়া আর নিজেরাও ডুব দেয়ার কাজ সারছে মাওয়া পাড়ের লোকেরা।



একটা ফেরিকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাই।



একটা লঞ্চও পেছনে পড়ে গেল।



অবশেষে কাওরাকান্দি ঘাটে পৌঁছে গেলাম।



পরিবহণটার সিটগুলো ছিল বেশ আরামদায়ক, আর একটু বৃষ্টিও নেমেছে, এজন্য কোন ফাকে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ নরম হাতের ধাক্কা।

-এই দেখো, গাড়ি জয়বাংলা পাম্পে থেমেছে। আমার একটু ইয়ে চেপেছে।

কি আর করা! আরামের ঘুমের বারটা বাজিয়ে টয়লেটের খোজে নামলাম তাকে সাথে নিয়ে। নগরকান্দার এ তেলের পাম্পটি সবাই জয়বাংলা পাম্প নামে চেনে, যদিও অন্য কি একটা নাম আছে।



হরিদাসপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সেতুর ওপর থেকে তোলা। গোপালগঞ্জ শহর এখান থেকে প্রায় দশ মিনিটের পথ।



ঘোনারপাড়ার কাছে চলে এসেছি। সোজা গেলে মোল্লাহাট সেতু দিয়ে খুলনা-বাগেরহাট-মংলা। ডানে গোপালগঞ্জ শহর। আমরা বামে যাবো।



টুংগীপাড়া হাইস্কুল। এখানে আসলে আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। অনেক মান-অভিমান আর স্মৃতি জড়িয়ে আছে।



এই সেই ঐতিহাসিক টুংগীপাড়া মোড়। হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা আর ভালবাসার মানুষটি ঘুমিয়ে আছে এখান থেকে সামান্য একটু দুরে। আপনাদের সবাইকে দাওয়াত এখানে বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য।

[ব্যাটারি ডাউন হওয়ায় শেষ ছবিটা ভাল ওঠে নাই]

হায় সুরুয়া..





একদিন সুরুয়া খেয়েছিলাম..
আসলে কথাটা হবে
খাইয়ে দিয়েছিলে...

তখন কেবল আমার
বসন্তের ফুল ফুটতে শুরু করেছিল
সেদিন জ্বরের ঘোরে কী বলেছি জানিনা
তারপর কতদিন পরি পরি বলে খেপাতে তুমি
কেউ জানত না পরিটা আসলে কে

এখনও পরি আছে
কেননা তুমি আছো
এখনও সুরুয়া খাওয়া হয় খুব

কেবল পরিকে দেখিনা
কুড়িটি বসন্ত



ছবি-নেট থেকে

অদ্ভুত সুন্দরের খোঁজে




সুন্দরকে উপলব্ধির অর্থ হলো
ভালবাসাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটু দেখে নেয়া
যেভাবে কোনো শিল্পকর্ম বারবার ছুঁয়ে দেখলেও
পিয়াস থেকে যায়।

কখনো নিঃসঙ্গ দুপুরে দিঘীর জলে
শুকনো পাতার নিমজ্জন
কখনো বিকেলের নরম রোদে
ভালোলাগার অনবরত সংসক্তি।

আসন্ধ্যা কোন অদৃশ্য ইচ্ছায়
বুভুক্ষ থাকা
ফলাহার রসনাবিলাস আর
দেহসুখ সরিয়ে রাখা

কী সেই সুন্দরের তিয়াস
যে সৌন্দর্য হৃদয়ের কাছে হার মানে না?
দেহের সব ইচ্ছার কাছে পরাভূত নয়?

মূলত বৃষ্টির অঝোর ধারায়
ধুয়ে যায় যে পঙ্কিলতা
অদ্ভুত সুন্দরের খোঁজে
এ কৃচ্ছসাধনা।


ছবি- নেট থেকে

জানি সে আছে




আমি জানি আছে
তার নম্বরটাও আছে সেভ করা
সে আছে তার চারপাশ আলো করে
শুধু একা হলে হাহাকার ওঠে
অন্ধকার চিরে

এইতো সেদিন মুঠোফোনে
উচ্ছল কলরোল, বাধভাঙ্গা আশা
স্বপ্নপাখির ডানায় শুধু
সবুজের আশা

কৈশোর ঝলমল মুখখানা ভাসে
আহা! এই মন তোরে দেখি
ভেদবুদ্ধি গেল নাশে

এখনও খুব ভোরে হঠাৎ জেগে
হু হু করে মন
ভাবি বসে ঝিম মেরে
এই বুঝি বেজে ওঠে ফোন

জানি নিজেকে বেধেছে সে
নিঠুর মায়ায়
চারপাশ হৈচৈ ছুটে চলা পথ
ভয় শুধু কখন
একলা পহর আসে
মেঘলা ছায়ায়
আমি জানি সে আছে

সেও জানে আমি আছি
খুবই কাছাকাছি

বিভ্রান্ত করে কি লাভ!!!



জ্ঞান নিয়ে অজ্ঞানী কারবার।

আমরা মনে করি, একটা বিষয়ে কোন উদ্দেশ্যে এই জ্ঞান জিনিসটাকে যদি উল্টে-পাল্টে দিতে পারি, তাহলে আম পাবলিকরে একটা অজ্ঞানী ঘুটা খাওয়ানো যাবে।

কিছু লোকরে হয়ত করা যায়। কিন্তু সবাইকে নয়। কেউ বিষয়টা সাথে সাথে ধরে ফেলেন এবং দাত কেলানো হাসি দেন।

কুরআন-হাদিসের কথাগুলো আরবিতে এসেছে আমাদের কাছে। আমরা অধিকাংশ এই ভাষাটা জানিনা বলে কিছু জ্ঞানপাপী আমাদের বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করেন।

এই ব্লগে এমন কিছু কারবার আছে। কেউ আবার নবী হয়ে প্রেরণাবাণী নাযিল করেন। আমরা কেউ কেউ শুধু দাত কেলাই।

বিনোদন একটি ভাল জিনিস। কিন্তু অতিরিক্ত হলে তাতে বদহজম হয়।

এক ব্লগার আরেক ব্লগারকে ভন্ড বলে যে পোস্ট দিয়েছেন তাতে বদহজমের সমূহ আশঙ্কা আছে।

উস্তাদের কাছে ইলম অর্জনের জন্য গিয়েছি, তিনি একটি ফার্সি কবিতা দিয়ে শুরু করলেন।


ইলমে রা হারগেজ না ইয়াবি তা না গীরে সসখেসাল
হেরসে কোতা ফাহমে কামেল জময়ে খাতের কুল্লি হাল
খেদমতে ওস্তাদে বায়াদ হাম সবক খানি মোদাম
লফজে রা তাহকিকে কুনি তা সুয়ে মরদে কামাল।




ইলম অর্জনের জন্য ছয়টি গুন ধারণ করতে হয়।
এক. প্রচন্ড আগ্রহ
দুই. পরিপূর্ণ অনুধাবন
তিন. সবার সাথে সদ্বভাব বজায় রাখা
চার. ওস্তাদের খেদমত করা
পাঁচ. পাঠ তৈরি রাখা
ছয়. প্রতিটি শব্দের বিশ্লেষন করা

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বললেন,

বেআদব, অহঙ্কারী, গোঁয়ার বা একগুয়ে লোকেরা ইলম বা জ্ঞান দিয়ে কারো উপকার করতে পারে না, নিজেও উপকৃত হয় না।

রমজান মাস। সংযমের মাস।
রোজা রেখে এই কথাগুলো না বললেও হত। তবু বলতে হল বলে দুঃখিত।

সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা


ছবি-নেট থেকে

আত্মশুদ্ধির সময় এলো আবার



গত দু'তিন দিন ধরে নিজকে রোজাদার মনে হচ্ছে। মাগরিবের আজান শুনে ইফতারির কথা মনে ভেসে ওঠে। শেষরাতে আজান শুনে ধড়মড়িয়ে উঠি। সেহরি খাওয়া হলোনা!

আসলে রমজান শুরুর আগে প্রতি বছরই এমন অনুভূতি শরীর-মনে জড়িয়ে ধরে। বিশ্বাসের এই দোলা দিয়ে যাওয়াকে কিভাবে ব্যক্ত করা যায়।

রোজার প্রস্তুতিও নিজের অজান্তে এগিয়ে চলে। পুরনো বই-কেতাব আর নেট ঘেটে মছলা-মাছায়েল পড়ি।

কুরআন পাঠ চলে। রোজার আয়াতগুলো বারবার পড়ি। মনে একধরণের শান্তির পরশ লাগে।


রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫

আজ জুমার দিন মহল্লার মসজিদে মুসল্লির সমাবেশটা উপচে পড়ার মত। আমার কাছে এটা একটা উৎসব উৎসব মনে হয়। অন্য জুমায় নিয়মিতদের দেখেছি। আজ শিশু-যুবক-প্রবীনদের জোয়ার সেখানে। যুবকদের সংখ্যা গতবারের তুলনায় বেশি মনে হল। হাজারের বেশী মুসল্লি রাস্তায় জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ল। ইয়াংদের কয়েকজন নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছে, রোজা আইছে, আকাম-কুকামডা অফ রাখতে হইব। রোজায় ভাল কামের লগে যেন ভেজাল না মেশানো হয়।

এমন সব সরস মন্তব্য।

আমার কাছে কুরআনের সুরা বাকারার ১৮৩ আয়াতটা পড়ে নিজেকে শুদ্ধ করার অনুপ্রেরণা পাই বারবার।

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।


আজ প্রথম তারাবি পড়ার পর খুব ভাল লাগছে।

ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। সবাই সেহরি খেতে বসেছে। আমাকে ডাকা হয়নি। আমি হঠাৎ জেগে উঠেছি। ডাকা হয়নি বলে মুখভার করে সেহরি খেতে গিয়েছি। মা বলেন, খোকা তুমি এখনও অনেক ছোট। রোজা রাখার সময় হয়নি তোমার। আমি গাল ফুলিয়ে বলেছি পাশের বাড়ির আবির-শায়লারা কি আমার থেকে বড়! মা হেসে দিয়েছেন। বাবা পিঠে-মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেন, খোকা, রোজা শুধু না খেয়ে থাকা নয়। গরীব-দুখীর কষ্ট অনুভব আর মন্দ থেকে দূরে থাকার ট্রেনিংও বটে।

আহা! সেসব কথা রোজা এলে এখনও খুব মনে পড়ে। শুধু সেই হাসিমুখ আর স্নেহের হাত নেই পাশে।

সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা।



ছবি- নেট থেকে।

ঢাকা- এশিয়া অঞ্চলের ইসলামিক সাংস্কৃতিক রাজধানী-২০১২




গিয়েছিলাম শিল্পকলা একাডেমী গ্যালারিতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রদর্শনী দেখতে। আহ..প্রাণ জুড়িয়ে গেল! শিশুরা এত সুন্দর করে মুক্তিযুদ্ধের ওপর ছবি একেছে, যা ভাষায় বর্ণনাতীত। আরো অসংখ্য ডকুমেন্টের ফটো রয়েছে সেখানে।

নিচে নেমে দেখি অফিসের সামনে বেশ বড়সড় জটলা। কারণ আর কিছুই না, ১৪ জুলাই ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী উদ্বোধন হবে। ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিং জমা করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, আইসেসকো(Islamic Educational, Scientific and Cultural Organization (ISESCO) ঢাকাকে ২০১২ সালের জন্য এশিয়া অঞ্চলের ইসলামী সংস্কৃতির রাজধানী ঘোষণা করেছে।



এই উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজনও করা হয়েছে।

খুইজা দেখি কয়েকটা ক্যালিগ্রাফি নেটে ছাড়া হয়েছে।


কালিমা তৈয়্যবা


বেঙ্গল তুগরা


ভালবাসা


রক্ষা

এগুলো সব ক্যালিগ্রাফি শিল্পী মোহাম্মদ আবদুর রহীমের আঁকা।