শুক্রবার, ৯ মার্চ, ২০১২

বাঙলা ক্যালিগ্রাফি : ভিন্ন এক শিল্প আলেখ্য




বাঙলা অক্ষর নিয়ে বাঙালদের ঐতিহ্যচিন্তা এ ভাষার প্রথম পথচলা থেকে শুরু হয়েছে। শুধু প্রয়োজন বলে কথা নয় হৃদয়ের আকুতি এর সাথে মিশে আছে। প্রাচীন পুথিপত্রে লেখাকে সুন্দর আর অলঙ্কার মণ্ডিত করার প্রয়াস বাঙাল ভূখণ্ডে প্রবলভাবে ফুটে ওঠে মধ্যযুগে।



ছাপার হরফে বই আসার পরেও প্রচ্ছদ আর ভেতরের ইলাস্ট্রেশনে বাংলা হরফের শিল্পিত ব্যবহার চালু রয়েছে। কিন্তু হরফ দিয়ে শিল্পকলা করার আবেগ আর স্পৃহা একেবারে হাল আমলের। আমাদের চারুকলায় বাঙলা হরফ দিয়ে লিপিকলা বা ক্যালিগ্রাফি করার কোন ট্রেডিশন দেখা যায় না। বিচ্ছিন্ন দু'একটা কাজ যা আছে তাতে এর প্রতি গভীর অভিনিবেশ প্রায় শুণ্যের কোঠায়।



বাঙলা ক্যালিগ্রাফির বর্তমান যে চিত্র পাওয়া যায় তাতে দুটো প্রধান চরিত্র রয়েছে। এক. বইপত্রে প্রচ্ছদ এবং ইলাস্ট্রেশন দুই. লিপিকলা।



বইয়ের প্রচ্ছদে শিরোনাম ক্যালিগ্রাফি স্টাইলে লেখার ক্ষেত্রে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী হচ্ছেন অগ্রনায়ক। তার তুলির টানে হরফের শিল্পিত অবয়ব একটি ধারার সৃষ্টি করেছে। এ ধারায় যারা কাজ করেছেন তারা প্রায় সবাই চারুকলার।



প্রায় একই রকম হরফের বলিষ্ঠভাব নিয়ে শিল্পী হাশেম খানের তুলির টানে অন্য একটি ধারা দেখা যায়। তবে হাশেম খানের হরফে একটা গ্রামীণ সরল ভাবের সাথে শিশুর সরলতার অসাধারণ বৈশিষ্ট্য অন্যদের মাঝে দেখা যায় না।



আর বাঙলাবাজারে ধর্মীয় বইপত্র এবং সাধারণ পাঠকদের জন্য লেখা বইয়ে আরবি হরফের আদলে বাঙলাহরফে ক্যালিগ্রাফিরও দেখা মেলে।



হাতে লেখা সাইনবোর্ড ও দেয়াল লিখন :

এখন আর হাতে লেখা সাইনবোর্ড প্রায় দেখা যায় না। দুই দশক আগেও চমৎকার আর্টিস্টিক বাঙলা হরফে সাইনবোর্ড লেখা হত। হরফে আলোছায়া আর উচুনিচু ভাবের সাথে শিল্পিত ছোয়া ছিল অসাধারণ। তেমনিভাবে দেয়াল লিখন আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। বামপন্থীদের দেয়াল লিখনে যে শিল্পিত রূপ ছিল তা অন্যদের বিমোহিত করত।



একুশে উদযাপন উপলক্ষে শহীদ মিনারের আশেপাশের দেয়াল লিখন এক সময় এত বিচিত্র আর মান সম্পন্ন ছিল যে সৌন্দর্যপিপাসুরা দাড়িয়ে দাড়িয়ে তা নয়ন ভরে দেখত। চারুকলার ছাত্ররা বরারবর এই লেখাকে তাদের প্রেস্টিজ ইস্যু মনে করত। এখন আর সেই মান নেই।



এক সময় দেয়াল পত্রিকা পাড়া মহল্লায়ও বের করা হত। এখন শিক্ষাঙ্গন থেকেও তা প্রায় হারিয়ে গেছে। এসব লেখালেখিতে হরফকে সুন্দর করার যে প্রয়াস ছিল তাতে শিক্ষিত মাত্রই সুন্দর হাতের লেখার একটা গুরুত্ব ছিল। আর এখন অধিকাংশ ছাত্রের হাতের লেখা দেখলে বাংলা হরফের প্রতি ভালবাসা দূরে থাক যেন হরফকেই তারা ভুলতে বসেছে।



এই চিত্রের উল্টোদিকও আছে। বাঙলা হরফে ক্যালিগ্রাফি করার একটা প্রয়াস ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে। পেইন্টিংয়ে হাশেমখান, কাইয়ুম চৌধুরী আর আবদুস সাত্তার বাঙলা হরফকে অনুসঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করছেন। চারুকলার সাম্প্রতিক কাজেও তা প্রভাব ফেলেছে।





অন্যদিকে বলা যায় একাডেমিক শিল্পচর্চার বাইরে কিছু শিল্পী তাদের শিল্পকর্মকে বাংলা ক্যালিগ্রাফি হিসেবে তুলে ধরার আন্তরিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের কাজে অভিনিবেশ আর কঠোর সাধনা লক্ষ্য করা যায়।









এসব বাঙলা ক্যালিগ্রাফিতে ধর্মীয় ভাব প্রাধান্য পেয়েছে টেক্সট ব্যবহারের ক্ষেত্রে। তাছাড়া দেশ মাতৃকা ভাষার প্রতি কমিটমেন্টও এসব কাজে দেখা যায়। তবে ক্যালিগ্রাফিতে শিল্পমানে কোন ছাড় দিতে রাজি নয় এসব শিল্পী। সাইফুল ইসলাম, ইব্রাহীম মণ্ডল, আরিফুর রহমান, আবদুর রহীমসহ প্রায় শতখানেক শিল্পী বাঙলা ক্যালিগ্রাফির একটি নতুন ধারা দাড় করিয়ে ফেলেছেন।

আরহামের পিকটোগ্রাফি:



আরহামুল হক চৌধুরী বাঙলা হরফকে নানান রকম পেচিয়ে বাকিয়ে যেকোন বস্তু বা প্রাণীর চিত্র একেছেন। তার কাজে প্রবাদ প্রবচন এসেছে চিত্রের অবয়ব তৈরিতে সাচ্ছন্দ্যরূপে। ছবির আবেদনের সাথে অবয়ব এবং টেক্সট মিলে একাকার হয়ে গেছে। এধরণের নিরীক্ষাধর্মী কাজে ঐতিহ্যকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। যা কিছুটা নগর জীবনের বিলাসের ভেতর লোকশিল্প ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা।

এই হচ্ছে চলমান বাঙলা ক্যালিগ্রাফির চিত্রালেখ্য।


ছবি- নেট ও আমার সংগ্রহশালা থেকে।

মঙ্গলবার, ৬ মার্চ, ২০১২

ক্যালিগ্রাফির প্রেমে এলিনূর হল্যান্ড..



যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি নিরিবিলি শহরতলি। সেখানে মেয়েটির শৈশব কাটে এক রকম বৈচিত্রহীন পরিবেশে। টিনেজ বয়সটা রঙ আর স্বপ্নে বিভোর। পড়াশুনা করতে করতে তার শুধু মনে হয় দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে।

এক সামারে তার সেই সুযোগ মিলে যায়।

এক তুর্কি পরিবারের আমন্ত্রণে সে ইস্তাম্বুল আসে। এখানে নতুন পরিবেশ, সংস্কৃতি আর একটি বিশেষ ধরণের আর্ট তাকে বিহ্বল করে তোলে। কিশোরী মনে তার দূরের স্বপ্ন জাগে। সে একজন ক্যালিগ্রাফার হবে। আরবি হরফের এই আর্টের প্রেমে সে দিওয়ানা হয়ে যায়। কিশোরীর প্রথম প্রেম বলে কথা!

ঘরে ফিরে কিছুই ভাল লাগে না। সারাদিন সে কালি আর খাগের কলম দিয়ে কাগজে হরফ একে চলে। তুরস্কে ক্ষণকাল আবাসে সে হরফগুলো আঁকা শিখেছিল। এরপর ক্যালিগ্রাফির টানে বহুবার তুরস্কে যেতে হয়েছে তাকে। সেই টিনেজ বয়সেই একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় সে।

ইসলাম গ্রহণ করে নিজের নাম রাখেন এলিনূর আয়েশা হল্যান্ড।



ক্যালিগ্রাফির পাশাপাশি তিনি টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রিলিজিয়াস স্টাডিজে বিএ এবং পেনসিলভানিয়া ইউনিতে আরবিতে পড়াশুনা করেন। এছাড়া কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেন্টার ফর এরাবিক স্টাডিজে সামার প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন।



একটানা কুড়ি বছর ধরে বিভিন্ন ওস্তাদের কাছে ক্যালিগ্রাফির দীক্ষা নেন। মোহাম্মদ জাকারিয়া আর বাগদাদের উইস্সাম শাওকাত তার ওস্তাদদের অন্যতম।



এলিনূর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। বিভিন্ন মিউজিয়ামে রক্ষিত আরবি ক্যালিগ্রাফির শিল্পকর্ম তিনি চর্চা ও প্রতিলিপি করা শুরু করেন। লাতিন হরফের ক্যালিগ্রাফিও এর সাথে আয়ত্ব করেন। বিশেষ করে আরবি ক্যালিগ্রাফির ইতিহাস, উন্নয়ন, ক্রমধারা, প্রয়োগ এবং এর নিগুঢ় কলাকৌশল সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করেন।



১৯৯৪ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন জাদুঘরে, প্রতিষ্ঠানে ক্যালিগ্রাফির ক্লাস নেয়া শুরু করেন। খুব দ্রুত তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক-বাণিজ্যিক পর্যায়ে তার ক্যালিগ্রাফির সংগ্রহ বেড়ে যায়।



স্মিতোনিয়ান ইনস্টিটিউট, নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি, ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ, নিউইয়র্ক সোসাইটি অব স্ক্রাইব ও লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তিনি ক্যালিগ্রাফি প্রেজেন্টেশন এবং প্রদর্শনি করেছেন।

এছাড়া বৃটিশ মিউজিয়ামে তার ক্যালিগ্রাফি ওয়ার্কশপ শিল্পাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির উপকন্ঠে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।



ক্যালিগ্রাফি সম্পর্কে তিনি বলেন, "এমন একটি চমৎকার নান্দনিক শিল্পকলা যে পৃথিবীতে রয়েছে, তা অনেকেই জানেন না। এমনকি এই ইসলামিক ক্যালিগ্রাফিই তাকে দূত হিসেবে অন্যান্য শিল্পকলার কাছে তুলে ধরেছে।"



সাধনা, অধ্যাবসায়, আর প্রগাঢ় শিল্পপ্রেমের এক জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে আমরা এলিনূর আয়েশা হল্যান্ডকে দেখতে পাই। শিল্পাঙ্গনে তিনি উত্তর প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ছবি-নেট থেকে মারিং

রবিবার, ৪ মার্চ, ২০১২

জাপানের ক্যালিগ্রাফির জীবন্ত কিংবদন্তি...





১৯৬৯ সালের ঘটনা। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেন স্টাডিজের ছাত্র ছিলেন হোণ্ডা। তখন তার মনে হয়েছিল- "আমি কখনও আর একটি আরবি বই খুলব না। আরবি ভাষাকে আমি ঘৃনা করি। ঐ ভাষার অধ্যাপকদের দুই চোখে দেখতে পারি না। কারণ তারা শুধু আরবি ব্যাকরণ পড়ান আর আরবি উপন্যাস, যা পড়াটা ছিল এক প্রকার অসম্ভব কাজ।"

কিন্তু সৌদি আরবে তার প্রথম পাঁচ বছরের কর্ম জীবনে আরবি ভাষার চলিত এবং ঐতিহ্যিক ধরণ আর আরবি হরফের লাবণ্যময় প্রয়োগ দেখে তার শিক্ষাজীবনের পড়াশুনা তাকে আহত করে। হোণ্ডার আগ্রহ বাড়তে থাকে এবং অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করতে থাকেন।

"প্রতিদিন আমি সুকে (বাজার) যেতাম আর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতাম, দয়া করে একটু বলেন- এই জিনিসটার নাম কি? এভাবে জিজ্ঞাসা করতাম আর নামগুলো কাতাকানায় (জাপানি হরফ) লিখে ফেলতাম। আমার ধারণা, আমার শিক্ষকরা ছিলেন বোধশক্তির দিক দিয়ে সত্যিকারভাবে সাধারণমানের নাগরিকদের মত, যেমন- ড্রাইভার, কেরানি। তবু তারা ছিলেন টোকিও বিশ্বিবদ্যালয়ের ফরেন স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক।"


হোণ্ডা খুব দ্রুত পেশায় উন্নতি করেন এবং সৌদি তেল মন্ত্রণালয়ের খনিজ-উৎস অনুসন্ধান দলের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তী তিন বছরের সিংহভাগ সময় তিনি মরুভূমিতে কাটান, যেখানে তিনি বেদুইনদের সাথে ঘনিষ্ট সময় অতিবাহিত করেছেন। তিনি প্রকৃতি সম্পর্কে নতুন ধারণা লাভ করেন।
" আমি প্রকৃতির পালাবদলের প্রতি খুব শ্পর্শকাতর হয়ে পড়ি।"



"যখন আমি দক্ষিণ আরব উপদ্বীপের রুব আল খালি(শূন্য চতুর্থাংশ) এলাকা দেখলাম। মরুর চলমানতার সৌন্দর্য্য আমাকে অভিভূত করে তুলল। জীবন্ত কিছুর মত বালিয়াড়ির প্রাকৃতিক প্রবাহ ছিল সেটা। আমার পদচিহ্নের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, মরুর দুরন্ত বাতাস সেখানে শিল্প ফুটিয়ে তুলেছে।"

"আমি মনে করি, আরবি ক্যালিগ্রাফির সাথে মরুর বালিয়াড়ির এই চলমান সৌন্দর্য্যের চমৎকার মিল রয়েছে। আরবি হরফের বৈশিষ্ট্যে শৈল্পিক চলমানতার বিষয়টি আমাকে এতটাই বিদ্ধ করেছিল যে, আমি যখন ফিরে আসি, আমার ভেতরে শুধু দুটো জিনিস আলোড়ন তুলছিল। এক. মরুর বালিয়াড়ির সৌন্দর্য্য আর দুই. আরবি ক্যালিগ্রাফি।


হোণ্ডা তার হৃদয়কে অস্বীকার করতে পারেননি। ১৯৭৯ সালে আবার তিনি আরব সংস্কৃতিতে ফিরে আসেন। ইসলাম গ্রহণ করেন এবং একটি মুসলিম নাম ফুয়াদ(হৃদয়) রাখেন। আরবি ভাষা শিখেন এবং আরবি ক্যালিগ্রাফি শেখায় আত্ননিয়োগ করেন। ১৯৮০ দশকের শেষ দিকে এবং ১৯৯০ দশকের প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক ক্যালিগ্রাফির দৃশ্যপটে নিজেকে তুলে ধরতে সমর্থ হন।



জাপানি ক্যালিগ্রাফিতে বেজির পশমের তুলি ফুদে(fude) ব্যবহার হয়। হোণ্ডা সেখানে বাশের কঞ্চির কলম (বুসে) ব্যবহার করে জাপানি ক্যালিগ্রাফিতে একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেন। তার উদ্ভাবিত ধারার নাম- সোডো আরাবি।
shodo ‘arabi—“the way of Arabic writing.”



আরবি ক্যালিগ্রাফিতে "আল খত আল আরাবি" কয়েকটি বিশিষ্ট লিপিশৈলিকে বলা হয়। তেমনি জাপানি সোডো কথাটার অর্থ হচ্ছে- কানা(জাপানি হরফ) অথবা কানজি(চিনা হরফ) লিপিতে আঁকা বিশেষ ধরণের চিত্রলিপি।

বর্তমানে জাপানের সোডো মাস্টাররা(জাপানের ক্যালিগ্রাফির স্বীকৃত উস্তাদ) ফুয়াদ কৌচি হোণ্ডাকে সোডো আরাবির জনক হিসেবে অবিহিত করেছেন।



১৯৯৯ সালে তিনি তুরস্কের উস্তাদ ক্যালিগ্রাফার হাচান চালাবির কাছ থেকে জালি দিওয়ানি(বলিষ্ঠ গোলায়িত আরবি লিপি) শৈলিতে ইযাযা(ডিপ্লোমা) অর্জন করেন। এবিষয়ে তিনি বলেন," আমরা প্রচলিত নীতিমালাকে ভেঙ্গে ফেলতে পারি না, যতক্ষণ না ক্যালিগ্রাফির ঐতিহ্যিক রূপমাধুর্য্যকে আমরা উতরে যেতে পারছি।"



ইউকারি তাকাহাসি, ক্যালিগ্রাফির একজন ছাত্রী, ইয়ামাওকা(সাদা মার্বেল কাগজে কালো কালিদিয়ে লেখা) ও সোডো আরাবি শিখছেন

আরবি ক্যালিগ্রাফির ব্যাপারে জাপানীদের আগ্রহী হয়ে ওঠার পেছনে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ কি? এ প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এবং ছাত্রদের কথা ছিল- সৌন্দর্য্য। এর পেছনে একটাই কারণ হচ্ছে সৌন্দর্য্য। আমরা সৌন্দর্য্যে আপ্লুত হই।




টোকিওর আরাবিক ইসলামিক ইনস্টিটিউট

জাপানে আরবি ক্যালিগ্রাফির ইনস্টিটিউট গড়া, সোডো আরাবিকে আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করা, জাপানি ক্যালিগ্রাফারদের মাঝে আলোড়ন তোলা এবং আরবি ক্যালিগ্রাফির সর্বোচ্চ অঙ্গনে জাপানি ছাত্রদের পুরস্কার অর্জনে যার অবদান একান্ত অনস্বীকার্য। তিনি ফুয়াদ কৌচি হোণ্ডা। তার কীর্তি আন্তর্জাতিক ক্যালিগ্রাফিতে অমর হয়ে থাকবে।

ছবি - নেট থেকে মারিং

বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ, ২০১২

শেখের পোর ক্যালিগ্রাফি

শেখের পো যখন ক্যালিগ্রাফি করা শুরু করল। তখন ক্যালিগ্রাফির প্রতি তার ভাললাগা বেড়ে চলল। এভাবে করতে করতে হয়ত একদিন সে ক্যালিগ্রাফার হয়ে যাবে।







                                      আল রাহমান, মুয়াল্লা সুলুস শৈলী, হ্যান্ডমেড পেপারে এক্রিলিক রঙ।






 অরাত্তিলিল কুরআনা তারতিলা। সুলুস লিপি। একটি অনুষ্ঠানের টাইটেল লোগো হিসেবে ডিজিইন করা হয়েছে।



বুধবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

মোহাম্মদ জাকারিয়া : ক্যালিগ্রাফি যার প্রেম....



এই ডাকটিকেটটি ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ প্রকাশ করে। মুসলমানদের ঈদ উৎসব উপলক্ষে ঈদ মুবারক কথাটা আরবি ক্যালিগ্রাফির সুলুস শৈলিতে নকশা করেন আমেরিকার একজন জনপ্রিয় ক্যালিগ্রাফার।

তার নাম মোহাম্মদ জাকারিয়া (Mohamed Zakariya) (আরবিতে- محمد زكريا‎)। তিনি ১৯৪২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরায় জন্মগ্রহণ করেন।


Mohamed Zakariya is a master of Arabic calligraphy. He was born in 1942 in California and trained as an aerospace engineer. In 1961, at the age of 19, a holiday to Morocco changed his life and career. He was fascinated by the culture, religion and language. Zakariya returned to Southern California, and began to learn the Arabic language and to study Islamic calligraphy. He later converted to Islam


বর্তমান সময়ে বিশ্বখ্যাত ক্যালিগ্রাফারদের অন্যতম মোহাম্মদ জাকারিয়া। জীবনের প্রথমদিকে এ্যারোস্পেস প্রকৌশলী হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেও ১৯ বছর বয়সে তার জীবনে মোড় ঘুরে যায়। এ সময় এক ছুটিতে তিনি মরক্কো বেড়াতে আসেন। তার ভেতরে ছিল শিল্পসত্ত্বা, তিনি মরক্কো এসে আরবি ক্যালিগ্রাফি দেখে এতটাই অভিভূত হন যে, এটার প্রেম তার জীবন এবং পেশাকে বদলে দেয়। আরব সংস্কৃতি, ইসলাম এবং আরবি ভাষা তাকে বিমুগ্ধ করে তোলে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া ফিরে তিনি আরবি ভাষা শিখতে শুরু করেন এবং ইসলামি ক্যালিগ্রাফি হাতে-কলমে আয়ত্ব করা শুরু করেন।

পরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।



ক্যালিগ্রাফির প্রতি তার প্রেম আর অধ্যাবসায় এতটা গভীরতা লাভ করে যে, এই শিল্পকলার তত্ত্বীয় ও প্রয়োগিক জ্ঞান লাভের জন্য মরক্কো, স্পেন, ব্রিটিশ মিউজিয়াম ও তুরস্কের ইসলামি আর্ট, ইতিহাস ও সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রে গমণ করেন।

ওয়াশিংটন ডিসির ফ্রির গ্যালারির ইসলামিক আর্টের কিউরেটরের পরামর্শক্রমে তুরস্কে গিয়ে তিনি ক্যালিগ্রাফির দীক্ষা নেন। ১৯৮৮ সালে তুরস্কে বতর্মান ক্যালিগ্রাফির জীবন্ত কিংবদন্তি উস্তাদ হাসান চালাবির নিকট ক্যালিগ্রাফি শেখা শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে চালাবি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুলুসনাশখ শৈলির মাস্টার ক্যালিগ্রাফারের সনদ 'ইকাজেট' প্রদান করেন। ক্যালিগ্রাফির বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ এ্যাডভ্যান্স ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।

তিনি তুরস্কের আরেক বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার ড. আলি আল্পসারানের কাছ থেকে তালিক শৈলিতে ইকাজেট লাভ করেন।

১৯৭২ সাল থেকে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাস শুরু করেন। এরপর তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে তার ক্যালিগ্রাফি শিল্পকর্মের প্রদর্শনি এবং এ বিষয়ে বক্তৃতা করেন।




তিনি ১৯৮৭ সালের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতায় জালি সুলুস শৈলীতে একটি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে ৩য় প্রতিযোগিতায় তিনি একই শৈলীতে ইনসেনটিভ পুরস্কার লাভ করেন। একমাত্র মার্কিন মুসলিম নাগরিক হিসেবে ক্যালিগ্রাফিতে তুর্কী ডিপ্লোমা “ইযাজেত” অর্জন করেন। তিনি আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্যালিগ্রাফির ওপর শিক্ষা প্রদান করেন।

ক্যালিগ্রাফির ওপর লেখা তার দুটি মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে। বই দু’টির নাম হচ্ছে, দ্যা আর্ট এবং অবজার্ভেশনস অন ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি



২০০২ সালে তার নির্মিত ডকুমেন্টরি "Muhammad: Legacy of a Prophet" (2002) প্রচারিত হয়।




তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামি ক্যালিগ্রাফির বিশিষ্ট দূত হিসেবে বিবেচিত।


জাকারিয়ার একটি বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফি।


ক্যালিগ্রাফিটি সুলুস শৈলিতে করা হয়েছে। আরবি টেক্সট হচ্ছে- আলাইসাল্লাহু বিকাফিন আবদুহ। অর্থ- আল্লাহ কি তার বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?

আপনারা চাইলে জাকারিয়ায় ওপর একটি চমৎকার ডকুমেন্টরি দেখতে পারেন-









ছবি- নেট থেকে মারিং

মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

বাঙলা 'পয়ার' শব্দের বাড়ির খোজে....



কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছন্দ বিষয়ক একখানা বই আছে। নাম 'ছন্দসরস্বতী'। বইটিতে একটি রূপক গল্প-


"নবজলধর কান্তি একজন পুরুষ ঘরের ভিতর প্রবেশ ক'রে আমায় মধুর গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন- 'কি জানতে চাও?' আমি আমার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলুম।

তিনি বিজ্ঞভাবে ঘাড় নেড়ে বললেন, 'অলবড়ি।....অলবড়ি কাকে বলে জানো? যে সমস্ত পদ্যপংক্তিতে চারটি করে পংক্তি-পর্ব থাকে, তাকে বলে অলবড়ি। তোমাদের পয়ারেও তাই, লাচারিতেও তাই; ছড়ার ছন্দেও তাই, পুঁথির ছন্দেও তাই; কাজেই মূলে দুই-ই এক। অলবড়ি শব্দের অপভ্রংশ হচ্ছে লাচাড়ি।'

হঠাৎ অমৃত-সাগরণের কথায় বাধা দিয়ে কে একজন বলে উঠলেন- 'কিহে? ভুল শেখাচ্ছ কেন!'

অমৃত-সাগরণ বললেন- 'কে হে। সৈফি মিঞা যে। তুমি এসে জুটেছ? তুমি কি বলতে চাও?'

কপালে রেশমী রুমাল বুলিয়ে মুসলমান ভদ্রলোকটি বললেন- 'বলতে চাই যে লাচাড়ি শব্দ ফার্সী লাচার শব্দ থেকে এসেছে। লাচারেরা যে ছন্দে গান গেয়ে বা ছড়া বলে ভিক্ষে ক'রে বেড়ায়, সেই হচ্ছে লাচাড়ি ছন্দ, যেমন লাচাড়ি তোড়ি মানে লাচার বা ভিখিরীদের মুখে মুখে তোড়ি রাগিণীর যে নতুন চেহারা দাঁড়িয়েছে, সেইটি। আর পয়ার হ'ল আরবী বয়েৎ শব্দের অপভ্রংশ।'

অমৃত-সাগরণ অদ্ভুতভাবে ঘাড় নাড়লেন। সৈফী মিঞা বিরক্তির স্বরে বললেন- 'কি? 'হাঁ' বলছ, না 'না' বলছ? তোমার ও মাদ্রাজী ঘাড়-নাড়ার কোনো হদিস পাইনে ব্রাদার।'

'না বলছি, - নিশ্চয়ই 'না', বয়েৎ থেকে পয়ার। তুমি হাসালে দেখছি। পয়ার এসেছে তামিল ছন্দ 'পরাণী' থেকে।'

'হুঃ। তাহলে আসামীরাও বলতে পারে যে লাচারড়ি হয়েছে তাদের লেচার শব্দ থেকে- যার মানে চলার ঝোঁকে হাতের ঝাঁকি।'

'কি রকম?'

'রকম আবার কি?'

'বাংলায় তামিল আগে? না তুর্কী আগে?'

'বাংলায় ফার্সী কথা বেশী? না দ্রবিড় কথা বেশী?'

'দ্রবিড়।'

'কি রকম?'

'যেমন বহুবচনের 'গুল্যে' শব্দ, আমাদের 'মরম-গল, বাংলায় হয়েছে 'গাছগুলো'।

'বেশ; কিন্তু অপর দিকটাও দেখছ না কেন? বাংলায় ক্রিয়ার ভিতরেও যে মুসলমানী ঢুকেছে- আমাদের 'কম' থেকে যে 'কমানো' হয়েছে তা' জানো? তোমাদের বেশী প্রভাব, না আমাদের।'



পয়ার ছন্দ কি? তা পড়তে গিয়ে মনে হল, শব্দটি কোথা থেকে এল?

পুথির বিশেষ করে বঙালদের লেখা পুথিতে পয়ার ছন্দের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখে মনে কৌতুহল জেকে বসায় এ খোজাখুজির কসরত।

প্রথমে ভারতীয় বাঙালা থেকে প্রকাশিত "সংসদ/বাঙালা অভিধান"-এ 'পয়ার' শব্দটি পাওয়া যায়। অভিধানটি সংকলন ক'রেছেন শৈলেন্দ্র বিশ্বাস। আর সংশোধন/অনুমোদন ক'রেছেন- ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত ও দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য। অভিধানে এ ব্যাপারে লেখা হয়েছে- 'পয়ার' বি-চতুর্দ্দশাক্ষর ছন্দ। বাংলা পদ্যে সর্বাধিক প্রচলিত (যেমন- 'মহাভারতের কথা অমৃত সমান;- কাশী)। [সং-পদকার]।" অর্থাৎ শৈলেন্দ বিশ্বাসের মতে, বিশেষ বাচক এ শব্দটি সংস্কৃতজ। এসেছে সংস্কৃত পদকার থেকে।

কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, যারা শব্দ নিয়ে নাড়াচাড়া করেন, তারা জানেন 'পদকার' একটা শব্দ নয়। সংস্কৃতও নয়।
'পদ' ও 'কার' দুটি শব্দ। আর তা ফারছীমূলক।
ফারছী ভাষার অভিধানে দেখা যায়- 'পদ' শব্দের মূল 'পা' অর্থ 'চরণ'। সেটা মানুষ বা জীব-জানোয়ারের চরণ(পা-পদ), অফিসিয়াল 'পদ' কিংবা কবিতার পংক্তি(পদ/চরণ) যে কোন অর্থ হতে পারে। আর 'কার' অর্থ-কাজ,শ্রম,চাকরি ইত্যাদি। কবিতা রচনা করাও একটা কাজ। তাই পদকার কোনমতেই সংস্কৃত শব্দ নয়। বাঙলায় প্রচুর 'কার' ফারছী প্রত্যয় ব্যবহারের নজির আছে। তাই 'পদকার' অর্থ 'পয়ার' নয়। পদকার অর্থ- কবি। অর্থাৎ যিনি কবিতার 'চরণ' বা 'পদ' রচনা করেন।

অনুরূপ ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হকের বাংলা একাডেমী(হওয়া উচিত ছিল 'বাঙলা একাডেমি' তাদের নীতিমালা অনুযায়ী) ব্যবহারিক বাংলা অভিধান-এ 'পয়ার' অর্থ-বি চতুর্দশাক্ষর ছন্দবিশেষ। {স. পদ+চার>} ।

এখানেও শব্দমূল সংস্কৃত বলা হয়েছে। কিন্তু আসলে তা নয়, পদ+চার শব্দদ্বয়ও ফারছী থেকে এসেছে। পদ সম্পর্কে উপরে বলা হয়েছে। আর ফারছী চাহার>চার এসেছে।

পয়ার সম্পর্কে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, 'সংস্কৃত বাংলা এবং প্রাকৃত বাংলা'র মধ্যে পয়ার প্রাকৃত বাংলার ছন্দ।' কিন্তু তিনি উৎস নিয়ে কোন কথা বলেননি।

তেমনিভাবে অনেক বিখ্যাত লেখক ও শাস্ত্রবিদের গ্রন্থে পয়ার নিয়ে আলোচনা থাকলেও এটার উৎসমূল নিয়ে আশাব্যাঞ্জক তথ্য মেলেনা। কিন্তু শব্দটি ভূঁইফোড় ত হতে পারে না।

এবার প্রথম রূপক গল্পটির শব্দ 'আলবড়ি' নিয়ে একটু চিন্তা করা যাক। তামিল 'আলবড়ি' শব্দটি আরবি 'আলবহরি' থেকে এসেছে। আরবি ছন্দশাস্ত্রে আলবহরি একটি বিশেষ ছন্দ। ইলমুল আরূদ বা আরবি ছন্দবিদ্যায় এটা পাওয়া যায়। যার চারিত্র আলবড়ি'র মত।

অনুরূপ ফারছীতে প আরবিতে ব উচ্চারণ হয়। বহার>পহার>পয়ার।

মজার বিষয় হল, প্রাচীন পুথিতে ১০ম শতাব্দির আগে পয়ার ছন্দের প্রয়োগ লক্ষ করা যায় না।

আপনাদের কারো কাছে যদি কোন তথ্য থাকে, তাইলে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

ছবি- নেট থেকে মারিং

রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

মমতা দিদি, বাঙালির হৃদয় ভাঙবেন না!



আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত যে সাহায্য-সহায়তা করেছে, তা তুলনাহীন। এজন্য আমার কৃতজ্ঞ। বিশেষকরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এবং জনগণের অবদানের কথা আমরা ভুলব না।

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে নানান অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও ভারতের সাথে আমরা সুসম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও উজান (ভারত) থেকে আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা আমরা পাচ্ছিনা। দু'দেশের বিশাল বাণিজ্য বৈষম্য বেড়ে চলেছে। কারণে অকারণে নসিয়তও পাচ্ছি। সীমান্ত হত্যা অসহনীয় পর্যায়ে পৌছে যাওয়া সত্ত্বেও ভারতকে আমরা বন্ধু ভাবতে চাই।

আমরা ভারত থেকে সর্দি-কাশির আরাম ফেন্সিডিল পাচ্ছি। গরুখেকো বাঙালির মাংসের জোগান আসছে ভারত থেকে। আনন্দ উৎসবে ভারতীয় নৃত্য-গীত শিল্পীরা এসে মাতিয়ে দিচ্ছেন আমাদেরকে। আমরা তৃপ্ত।

সাংস্কৃতিক বন্ধন বরাবর আমরা দৃঢ় করতে চেয়েছি। এমনকি অসমছালা অনুষ্ঠান দেখা ছাড়া এখন আমাদের রাতের খাবার হজম হচ্ছে না। আমাদের সিনেমা-নাটক কলকাতায় ঠাই না পেলেও আমরা কলকাতার সিনেমা ঢাকার সিনেমাহলগুলোর জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। কলকাতার পত্র-পত্রিকা আর সাহিত্যকে আমরা দুহাত বাড়িয়ে গ্রহণ করে চলেছি। আসলে আমরা বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ় রাখতে চাই।

কিন্তু এখন কেন যেন মনে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ফিকে করতে চাচ্ছে। তিস্তার পানি আমাদের ন্যায্য অধিকার। কিন্তু মমতা দিদি বেঁকে বসলেন। আমাদের তরফে বহু রকম নজরানা পেশ করেও তিস্তা চুক্তি হল না। আমাদের মনি আপা কতশত কোশেশ করলেন। কিন্তু মমতা দিদির মন গলাতে পারলেন না।

আজ খবর পেলাম, বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের বেনাপোল-পেট্রাপোল ‘নো ম্যান্স ল্যান্ডে’ দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসা ভাষা দিবসের যৌথ অনুষ্ঠানটাও মমতা দিদি বন্ধ করে দিয়েছেন।

২১ ফেব্রুয়ারির ওই অনুষ্ঠানে দু’ দেশের শিল্পী ও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে সেখানে একটি মিলনমেলার সৃষ্টি হয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ‘ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পদ্মা ভাষা ও মৈত্রী সমিতি’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং দু’ দেশের স্থানীয় প্রশাসন তাতে সহযোগিতা করতো।


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও গাইঘাটা এলাকার বিধায়ক ও মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাধায় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

বেনাপোল ও পেট্রাপোল সীমান্তে জিরো পয়েন্টে গত ২০০৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহান একুশে পালনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। দু’ দেশের ঐতিহ্য , পরম্পরার বার্তাও দেওয়া নেওয়া এই অনুষ্ঠানে।

সীমান্তে জিরো পয়েন্টের এপারে একটি মঞ্চ হয় এবং অন্য প্রান্তে আরেকটি মঞ্চ। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীরা ওপারের মঞ্চে গিয়ে এবং বাংলাদেশের শিল্পীরা ভারতের মঞ্চে এসে গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

যৌথ আয়োজক কমিটির সভাপতি ভারতের সাবেক এমপি অমিতাভ নন্দী এবং সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশের এমপি আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন।

আইন-শৃঙ্খলার কথা বলে এটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।


আমরা জানিনা কেন এসব ব্যাপার ঘটছে। বাংলাদেশের জনগণ বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। আশাকরব এসব অস্বস্তিকর ব্যাপার কেটে যাবে এবং আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে যাবে।

ছবি- নেট থেকে