বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১২

টুংগীপাড়ার পথে......





সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।

এবার হঠাৎ বর্ষণমুখর দিনে জন্মভূমির উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লাম। যাত্রাবাড়ীর যানজট ছাড়া এবারের ভ্রমণটা ছিল এককথায় মন জুড়ানো। পুরো রাস্তা মখমলের মত মসৃণ আর আরামদায়ক। সাথে ক্যামেরা ছিল, কিন্তু তাড়াহুড়োয় পর্যাপ্ত ব্যাটারি না থাকায় অনেক ছবি তোলা যায় নাই।



মাওয়া লঞ্চঘাট থেকে পদ্মায় ভেসেছি আমরা।



ঘাটের পাশেই ইটের ভাটা। নদীতে গরুর গা ধুইয়ে দেয়া আর নিজেরাও ডুব দেয়ার কাজ সারছে মাওয়া পাড়ের লোকেরা।



একটা ফেরিকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাই।



একটা লঞ্চও পেছনে পড়ে গেল।



অবশেষে কাওরাকান্দি ঘাটে পৌঁছে গেলাম।



পরিবহণটার সিটগুলো ছিল বেশ আরামদায়ক, আর একটু বৃষ্টিও নেমেছে, এজন্য কোন ফাকে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ নরম হাতের ধাক্কা।

-এই দেখো, গাড়ি জয়বাংলা পাম্পে থেমেছে। আমার একটু ইয়ে চেপেছে।

কি আর করা! আরামের ঘুমের বারটা বাজিয়ে টয়লেটের খোজে নামলাম তাকে সাথে নিয়ে। নগরকান্দার এ তেলের পাম্পটি সবাই জয়বাংলা পাম্প নামে চেনে, যদিও অন্য কি একটা নাম আছে।



হরিদাসপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সেতুর ওপর থেকে তোলা। গোপালগঞ্জ শহর এখান থেকে প্রায় দশ মিনিটের পথ।



ঘোনারপাড়ার কাছে চলে এসেছি। সোজা গেলে মোল্লাহাট সেতু দিয়ে খুলনা-বাগেরহাট-মংলা। ডানে গোপালগঞ্জ শহর। আমরা বামে যাবো।



টুংগীপাড়া হাইস্কুল। এখানে আসলে আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। অনেক মান-অভিমান আর স্মৃতি জড়িয়ে আছে।



এই সেই ঐতিহাসিক টুংগীপাড়া মোড়। হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা আর ভালবাসার মানুষটি ঘুমিয়ে আছে এখান থেকে সামান্য একটু দুরে। আপনাদের সবাইকে দাওয়াত এখানে বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য।

[ব্যাটারি ডাউন হওয়ায় শেষ ছবিটা ভাল ওঠে নাই]

হায় সুরুয়া..





একদিন সুরুয়া খেয়েছিলাম..
আসলে কথাটা হবে
খাইয়ে দিয়েছিলে...

তখন কেবল আমার
বসন্তের ফুল ফুটতে শুরু করেছিল
সেদিন জ্বরের ঘোরে কী বলেছি জানিনা
তারপর কতদিন পরি পরি বলে খেপাতে তুমি
কেউ জানত না পরিটা আসলে কে

এখনও পরি আছে
কেননা তুমি আছো
এখনও সুরুয়া খাওয়া হয় খুব

কেবল পরিকে দেখিনা
কুড়িটি বসন্ত



ছবি-নেট থেকে

অদ্ভুত সুন্দরের খোঁজে




সুন্দরকে উপলব্ধির অর্থ হলো
ভালবাসাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটু দেখে নেয়া
যেভাবে কোনো শিল্পকর্ম বারবার ছুঁয়ে দেখলেও
পিয়াস থেকে যায়।

কখনো নিঃসঙ্গ দুপুরে দিঘীর জলে
শুকনো পাতার নিমজ্জন
কখনো বিকেলের নরম রোদে
ভালোলাগার অনবরত সংসক্তি।

আসন্ধ্যা কোন অদৃশ্য ইচ্ছায়
বুভুক্ষ থাকা
ফলাহার রসনাবিলাস আর
দেহসুখ সরিয়ে রাখা

কী সেই সুন্দরের তিয়াস
যে সৌন্দর্য হৃদয়ের কাছে হার মানে না?
দেহের সব ইচ্ছার কাছে পরাভূত নয়?

মূলত বৃষ্টির অঝোর ধারায়
ধুয়ে যায় যে পঙ্কিলতা
অদ্ভুত সুন্দরের খোঁজে
এ কৃচ্ছসাধনা।


ছবি- নেট থেকে

জানি সে আছে




আমি জানি আছে
তার নম্বরটাও আছে সেভ করা
সে আছে তার চারপাশ আলো করে
শুধু একা হলে হাহাকার ওঠে
অন্ধকার চিরে

এইতো সেদিন মুঠোফোনে
উচ্ছল কলরোল, বাধভাঙ্গা আশা
স্বপ্নপাখির ডানায় শুধু
সবুজের আশা

কৈশোর ঝলমল মুখখানা ভাসে
আহা! এই মন তোরে দেখি
ভেদবুদ্ধি গেল নাশে

এখনও খুব ভোরে হঠাৎ জেগে
হু হু করে মন
ভাবি বসে ঝিম মেরে
এই বুঝি বেজে ওঠে ফোন

জানি নিজেকে বেধেছে সে
নিঠুর মায়ায়
চারপাশ হৈচৈ ছুটে চলা পথ
ভয় শুধু কখন
একলা পহর আসে
মেঘলা ছায়ায়
আমি জানি সে আছে

সেও জানে আমি আছি
খুবই কাছাকাছি

বিভ্রান্ত করে কি লাভ!!!



জ্ঞান নিয়ে অজ্ঞানী কারবার।

আমরা মনে করি, একটা বিষয়ে কোন উদ্দেশ্যে এই জ্ঞান জিনিসটাকে যদি উল্টে-পাল্টে দিতে পারি, তাহলে আম পাবলিকরে একটা অজ্ঞানী ঘুটা খাওয়ানো যাবে।

কিছু লোকরে হয়ত করা যায়। কিন্তু সবাইকে নয়। কেউ বিষয়টা সাথে সাথে ধরে ফেলেন এবং দাত কেলানো হাসি দেন।

কুরআন-হাদিসের কথাগুলো আরবিতে এসেছে আমাদের কাছে। আমরা অধিকাংশ এই ভাষাটা জানিনা বলে কিছু জ্ঞানপাপী আমাদের বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করেন।

এই ব্লগে এমন কিছু কারবার আছে। কেউ আবার নবী হয়ে প্রেরণাবাণী নাযিল করেন। আমরা কেউ কেউ শুধু দাত কেলাই।

বিনোদন একটি ভাল জিনিস। কিন্তু অতিরিক্ত হলে তাতে বদহজম হয়।

এক ব্লগার আরেক ব্লগারকে ভন্ড বলে যে পোস্ট দিয়েছেন তাতে বদহজমের সমূহ আশঙ্কা আছে।

উস্তাদের কাছে ইলম অর্জনের জন্য গিয়েছি, তিনি একটি ফার্সি কবিতা দিয়ে শুরু করলেন।


ইলমে রা হারগেজ না ইয়াবি তা না গীরে সসখেসাল
হেরসে কোতা ফাহমে কামেল জময়ে খাতের কুল্লি হাল
খেদমতে ওস্তাদে বায়াদ হাম সবক খানি মোদাম
লফজে রা তাহকিকে কুনি তা সুয়ে মরদে কামাল।




ইলম অর্জনের জন্য ছয়টি গুন ধারণ করতে হয়।
এক. প্রচন্ড আগ্রহ
দুই. পরিপূর্ণ অনুধাবন
তিন. সবার সাথে সদ্বভাব বজায় রাখা
চার. ওস্তাদের খেদমত করা
পাঁচ. পাঠ তৈরি রাখা
ছয়. প্রতিটি শব্দের বিশ্লেষন করা

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বললেন,

বেআদব, অহঙ্কারী, গোঁয়ার বা একগুয়ে লোকেরা ইলম বা জ্ঞান দিয়ে কারো উপকার করতে পারে না, নিজেও উপকৃত হয় না।

রমজান মাস। সংযমের মাস।
রোজা রেখে এই কথাগুলো না বললেও হত। তবু বলতে হল বলে দুঃখিত।

সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা


ছবি-নেট থেকে

আত্মশুদ্ধির সময় এলো আবার



গত দু'তিন দিন ধরে নিজকে রোজাদার মনে হচ্ছে। মাগরিবের আজান শুনে ইফতারির কথা মনে ভেসে ওঠে। শেষরাতে আজান শুনে ধড়মড়িয়ে উঠি। সেহরি খাওয়া হলোনা!

আসলে রমজান শুরুর আগে প্রতি বছরই এমন অনুভূতি শরীর-মনে জড়িয়ে ধরে। বিশ্বাসের এই দোলা দিয়ে যাওয়াকে কিভাবে ব্যক্ত করা যায়।

রোজার প্রস্তুতিও নিজের অজান্তে এগিয়ে চলে। পুরনো বই-কেতাব আর নেট ঘেটে মছলা-মাছায়েল পড়ি।

কুরআন পাঠ চলে। রোজার আয়াতগুলো বারবার পড়ি। মনে একধরণের শান্তির পরশ লাগে।


রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫

আজ জুমার দিন মহল্লার মসজিদে মুসল্লির সমাবেশটা উপচে পড়ার মত। আমার কাছে এটা একটা উৎসব উৎসব মনে হয়। অন্য জুমায় নিয়মিতদের দেখেছি। আজ শিশু-যুবক-প্রবীনদের জোয়ার সেখানে। যুবকদের সংখ্যা গতবারের তুলনায় বেশি মনে হল। হাজারের বেশী মুসল্লি রাস্তায় জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ল। ইয়াংদের কয়েকজন নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছে, রোজা আইছে, আকাম-কুকামডা অফ রাখতে হইব। রোজায় ভাল কামের লগে যেন ভেজাল না মেশানো হয়।

এমন সব সরস মন্তব্য।

আমার কাছে কুরআনের সুরা বাকারার ১৮৩ আয়াতটা পড়ে নিজেকে শুদ্ধ করার অনুপ্রেরণা পাই বারবার।

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।


আজ প্রথম তারাবি পড়ার পর খুব ভাল লাগছে।

ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। সবাই সেহরি খেতে বসেছে। আমাকে ডাকা হয়নি। আমি হঠাৎ জেগে উঠেছি। ডাকা হয়নি বলে মুখভার করে সেহরি খেতে গিয়েছি। মা বলেন, খোকা তুমি এখনও অনেক ছোট। রোজা রাখার সময় হয়নি তোমার। আমি গাল ফুলিয়ে বলেছি পাশের বাড়ির আবির-শায়লারা কি আমার থেকে বড়! মা হেসে দিয়েছেন। বাবা পিঠে-মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেন, খোকা, রোজা শুধু না খেয়ে থাকা নয়। গরীব-দুখীর কষ্ট অনুভব আর মন্দ থেকে দূরে থাকার ট্রেনিংও বটে।

আহা! সেসব কথা রোজা এলে এখনও খুব মনে পড়ে। শুধু সেই হাসিমুখ আর স্নেহের হাত নেই পাশে।

সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা।



ছবি- নেট থেকে।

ঢাকা- এশিয়া অঞ্চলের ইসলামিক সাংস্কৃতিক রাজধানী-২০১২




গিয়েছিলাম শিল্পকলা একাডেমী গ্যালারিতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রদর্শনী দেখতে। আহ..প্রাণ জুড়িয়ে গেল! শিশুরা এত সুন্দর করে মুক্তিযুদ্ধের ওপর ছবি একেছে, যা ভাষায় বর্ণনাতীত। আরো অসংখ্য ডকুমেন্টের ফটো রয়েছে সেখানে।

নিচে নেমে দেখি অফিসের সামনে বেশ বড়সড় জটলা। কারণ আর কিছুই না, ১৪ জুলাই ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী উদ্বোধন হবে। ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিং জমা করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, আইসেসকো(Islamic Educational, Scientific and Cultural Organization (ISESCO) ঢাকাকে ২০১২ সালের জন্য এশিয়া অঞ্চলের ইসলামী সংস্কৃতির রাজধানী ঘোষণা করেছে।



এই উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজনও করা হয়েছে।

খুইজা দেখি কয়েকটা ক্যালিগ্রাফি নেটে ছাড়া হয়েছে।


কালিমা তৈয়্যবা


বেঙ্গল তুগরা


ভালবাসা


রক্ষা

এগুলো সব ক্যালিগ্রাফি শিল্পী মোহাম্মদ আবদুর রহীমের আঁকা।